রান্নাবান্নার আয়োজন চলছে, চলছে কনেকে বিয়ের সাজে সাজানোর প্রস্তুতি। বর আসার সময় হয়েছে তাই তাদের তাড়াহুড়ো করে সব কাজ করতে হচ্ছে। এমন সময় খবর এল বাড়ির দিকে একদল পুলিশ ছুটে আসছে। খবর পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রান্নাবান্নার বাসন কোসন, দুধ, সেমাই ও মাংস ঘরের এক কোনো লুকিয়ে রেখেই কনেকে নিয়ে বাড়ির লোকজন উধাও। ইউএনও, পুলিশ বাড়িতে ঢুকে কোনো লোকজনকে না পেয়ে অবাগ। এ ঘটনাটির অবতারনা হয় একটি বাল্য বিয়ে বাড়িতে। বুধবার রাত ৮টার দিকে রাজীবপুর উপজেলার জহির মন্ডলপাড়া গ্রামের ঘটনা এটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাদের বলেন, ‘ন্যাশনাল কর্মীর মাধ্যমে আমি খবর পাই ওই গ্রামে ৭ম শ্রেনীতে পড়–য়া এক ছাত্রীর বিয়ে হচ্ছে। পরে থানা পুলিশকে নিয়ে হাজির হই বাড়িতে। যাতে তাদেরকে বুঝিয়ে বিয়েটা বন্ধ করা যায় এবং মেয়েটির লেখাপড়া নিশ্চিত করা যায়। গিয়ে দেখি কনেসহ লোকজন পালিয়েছে। অনেক খোঁজ খবর করেও যখন তাদের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না তখন আমরা রান্নার জিনিসপত্র ও খাবার নিয়ে আসি।’
গ্রামবাসিরা জানায়, জহিরমন্ডল পাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল করিমের ৭ম শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়েকে একই উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের আমান আলীর পুত্র ইউসুফ আলীর (২০) সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল ওই দিন। পুলিশের ভয়ে তারা বাড়ি থেকে আত্মগোপন করে।
আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ডরে (ভয়ে) গেদিক (মেয়ে) নিয়া পালাইছিলাম। কিন্তুক ওরা (ইউএনও-পুলিশ) গোস্ত, সেমাই চিনি ও দুধসহ বাসনকোসন নিয়া গ্যাছে। বাইত্তে আইসা দেহি গেদির বিয়ের লাল কাপড়, ব্লাউজ ছায়া ও পায়ের সেন্ডল পর্যন্ত নিয়া গ্যাছে। আমরা গরীব মানুষ অতশত বুঝি না। গেদির বিয়ার বয়স অইছে তাই বিয়া ঠিক করছি।’
মেয়েটির মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘মাইয়া বড় অইলে বিয়া দেওয়া সমস্যা হয়। এক গাদি ট্যাহা নাগে। ভাল এডা সম্ভধন আইছে, পোলাপক্ষ কইছে কোনো ট্যাহা পয়সা নিব না। খালি মাইয়াডাক তারা নিব। তাই বিয়া বিয়া দিবার ধরছিলাম।’ মেয়েটি বলে, ‘আমি বিয়ে করতে চাইনি। আরো পড়তে চাইছিলাম। কিন্তু বাবামা জোর করে আমাকে বিয়ে দিবার ধরছিল। বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এহন আমি আবার স্কুলে যাবার পারমু।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আব্দুল কাদের বলেন, ‘যখন ওদের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে বাড়ির জিনিসপত্র ও কাপড় নিয়ে আসা হয়েছিল। যাতে বিয়ে না দিতে পারে। তবে ওগুলো ফেরত দেওয়া হবে।’
গ্রামবাসিরা জানায়, জহিরমন্ডল পাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুল করিমের ৭ম শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়েকে একই উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের আমান আলীর পুত্র ইউসুফ আলীর (২০) সাথে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল ওই দিন। পুলিশের ভয়ে তারা বাড়ি থেকে আত্মগোপন করে।
আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা ডরে (ভয়ে) গেদিক (মেয়ে) নিয়া পালাইছিলাম। কিন্তুক ওরা (ইউএনও-পুলিশ) গোস্ত, সেমাই চিনি ও দুধসহ বাসনকোসন নিয়া গ্যাছে। বাইত্তে আইসা দেহি গেদির বিয়ের লাল কাপড়, ব্লাউজ ছায়া ও পায়ের সেন্ডল পর্যন্ত নিয়া গ্যাছে। আমরা গরীব মানুষ অতশত বুঝি না। গেদির বিয়ার বয়স অইছে তাই বিয়া ঠিক করছি।’
মেয়েটির মা নুরজাহান বেগম বলেন, ‘মাইয়া বড় অইলে বিয়া দেওয়া সমস্যা হয়। এক গাদি ট্যাহা নাগে। ভাল এডা সম্ভধন আইছে, পোলাপক্ষ কইছে কোনো ট্যাহা পয়সা নিব না। খালি মাইয়াডাক তারা নিব। তাই বিয়া বিয়া দিবার ধরছিলাম।’ মেয়েটি বলে, ‘আমি বিয়ে করতে চাইনি। আরো পড়তে চাইছিলাম। কিন্তু বাবামা জোর করে আমাকে বিয়ে দিবার ধরছিল। বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। এহন আমি আবার স্কুলে যাবার পারমু।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আব্দুল কাদের বলেন, ‘যখন ওদের কোনো খোঁজখবর না পেয়ে বাড়ির জিনিসপত্র ও কাপড় নিয়ে আসা হয়েছিল। যাতে বিয়ে না দিতে পারে। তবে ওগুলো ফেরত দেওয়া হবে।’
খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন