এসিড অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল কুড়িগ্রাম এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সাজেদুল করিম রোববার এসিড নিক্ষেপ মামলার রায়ে আসামী মোঃ রাজ্জাককে মৃত্যুদন্ড ও একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড করেছেন।মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় গ্রামের মৃত বাহার উদ্দিনের ছেলে মো: আব্দুর রাজ্জাক পূর্বের স্ত্রীর কথা গোপন রেখে একই গ্রামের হালিমা খাতুন নামে এক যুবতিকে বিয়ে করেন। ঘটনা প্রকাশ হলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয় এবং হালিমা বাবার বাড়িতে চলে আসে। তাকে নিজের বাড়িতে ফেরৎ আনার জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাতে হালিমা ঘুমিয়ে আছে মনে করে রাজ্জাক এসিড নিক্ষেপ করলে হালিমার মা জরিনা (৬০) ও ভাগ্নি খুশির (১৪) শরীর আগুনে ঝলসে যায়।
এসিডে খুশির ডান চোখ, মাথা ,ডান মুখমন্ডল, পেট.পায়ুপথ যৌনাঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রন্থ হয় এবং পাশাপাশি ঘুমিয়ে থাকা নানী জরিনা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থান স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
এ বিষয়ে হালিমার ছোট ভাই শাহীন আলম গত বছর ১৯ নভেম্বর ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এর ৫ এর (ক ) ধারা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মামলা রায়ে মৃত্যুদন্ড ছাড়াও রাজ্জাককে একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। এই টাকা জেলা প্রশাসক আদায় করে ট্রাইবুনালে জমা করবেন এবং আদালত মামলার ভিকটিমদের প্রদান করবেন।
মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষ পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন। তাকে সহযোগিতা করেন এসিড সারভাইভর্স ফাউন্ডেশন ঢাকা, শিশু অধিকার বাস্তবায়ন ফোরাম কুড়িগ্রাম, সেইভ দ্যা চিলড্রেন ইউকে, সলিডারিটি, ব্র্যাকসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক শিশু সংগঠন।
আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোঃ ইদ্রিস আলী ও অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন মন্ডল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন