জানাগেছে, গত ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদ থেকে ১০টি ইউনিয়নে ১৪০টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৬৯ মেঃটন এবং জাতীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে ১৮ টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৯ মেঃটন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সদস্যের বরাদ্দ থেকে ৭৮টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৯লাখ ৫০ হাজার টাকা। অধিকাংশ বরাদ্দ মসজিদ ,মাদরাসা,স্কুল,কাব,সমিতি,কলেজ,পার্ক সংস্কার ও মেরামত এবং আসবাব পত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্ত অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিটন গমের বিপরীতে ঐ প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৫ হাজার করে টাকা। অর্থের বরাদ্দে প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে প্রতি হাজারে ৪০০ টাকা।
কোন কোন প্রতিষ্ঠানে দুটি প্রকল্প ধরিয়ে একটি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কাজ করে বাকী প্রকল্পের সমুদয় অর্থ পকেটস্থ করা হয়েছে। জানাগেছে, ভুরুঙ্গামারী মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘর মেরামত ও ল্যাট্রিন সংস্কার বাবদ ৫ মেঃটন গম এবং আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা , একই ভাবে ভুরুঙ্গামারী বাজার জামে মসজিদে পৌনে ২ মেঃটন গম এবং ৫০হাজার টাকা ,ভুরুঙ্গামারী পাবলিক কাবে সাড়ে ৩ মেঃটন গম এবং ৫০ হাজার টাকা , (অথচ এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারের হাটের জমিতে প্রতিষ্ঠিত)এবং কিশলয় বিদ্যানিকেতনে ৩ মেঃটন গম ও ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে ৪৬ মেঃ টন বরাদ্দকৃত গমের ১৯টি প্রকল্প এবং ৫২ টি প্রকল্পে প্রায় ২০ লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৃথক পৃথক কমিটি থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ করছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেন।তিনি যে প্রকল্পের কাজ করেন নাই সে প্রকল্পে ৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভুরুঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,ঘর সংস্কার বাবদ ৫ মেঃটন গম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শুধু সাক্ষর দিয়েছি মাল কিংবা টাকা কিছুই পাইনি । যোগাযোগ করেছি চেয়ারম্যান বেঞ্চ বানিয়ে দিতে চেয়েছে। মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জার রহমান জানান, ৫ মেঃটন গম এবং ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।টুকটাক কাজ চলছে বাকী কাজ চেয়ারম্যান করবেন। নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, বরাদ্দ কি পেয়েছি জানিনা । কাগজ তৈরী করে চেয়েছে, দিয়েছি কি কাজ করবেন তারা জানেন।
ভুরুঙ্গামারী সদরে আনসার ও ভিডিপি ঘর সংস্কারের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ঐ প্রতিষ্ঠানের কেউ বরাদ্দের কথা জানেন না। সদরে কেন্দ্রীয় মন্দির সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও এ নামে কোন প্রতিষ্ঠান নাই।
চরভুরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ মেঃটন টি আর বরাদ্দ দেয়া হলেও প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম কিছুই জানেন না বলে জানান। গত ২৭এপ্রিল উঃপ্রঃবাঃঅঃটিআর/কাবিখা২০১০-১১/১০১(১৬) নং স্মারকে ১৬ সদস্য বিশিষ্ঠ টিআর কাবিখা পর্যবেক্ষন কমিটি গঠন করা হয়েছিল।যাদের দায়িত্ব ছিল প্রকল্প তালিকা তৈরী ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের উক্ত কমিটির সভাপতি মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহান এবং সদস্য সচিব ইউপি সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা জানান, কমিটি গঠনের কথা গঠন করা হয়েছিলো কিন্ত কাজ করেছে অন্য জনে। চেষ্টা করেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল হক অভিযোগগুলো ক্ষতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার জানান, তিনিও অভিযোগ পেয়েছেন, আগামী মিটিংয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন