বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

টিআর প্রকল্পঃ ইউএনও’র নির্দেশ মানছেনা চেয়ারম্যানঃ এখন অফিসে চলছে জাল স্বাক্ষর ও প্রকল্প পরিবর্তনের কাজ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিন দিনের মধ্যে গ্রমীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের কাজ সমাপ্ত করে তাঁর দপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দিলেও অদ্যাবধি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের সিকি ভাগও হয়নি। কিন্ত প্রকল্প কমিটি রেজুলেশন করে জানিয়ে দিয়েছে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সমাপ্ত হয়েছে। আর ৩০ জুন টাকা উত্তোলনের আগেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসাররা সন্তোষজনক কাজ হয়েছে মর্মে মাষ্টার রোলে স্বাক্ষর করার পরই পিআইও  অফিস থেকে খাদ্য-শস্য ও অর্থের চেক প্রদান করা হয় প্রকল্প চেয়ারম্যানদের নামে। ডি ও এবং চেকে স্বাক্ষর নিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের পরে টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য তিনি খাদ্য-শস্যের ডিও ক্রয় করেন। সরল বিশ্বাসে তারা চলে গেলেও দীর্ঘ দিনেও কাজ  না করায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত  খবর প্রকাশ হওয়ায় টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে গত ১০/৭/২০১১তারিখে ৩৯৯নং স্মারকে প্রকল্প চেয়ারম্যানদেরকে ৩ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করে প্রকল্প কমিটির রেজুলেশন সহ তাঁর দপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানানো হয়।
সরেজমিন সোমবার শিলখুড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় এ বিদ্যালয়ে ঘর মেরামত বাবদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কোন কাজ করা হয়নি। মাঠের মাঝখানে শ’পাঁচেক ইট দেখা গেছে। একই ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গৃহ মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৫০ হাজার টাকা। এখানে ১১টি দরজার শুধু বাতা বদলিয়ে রং করা হয়েছে। আর কোনো কাজ করা হয়নি।
প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইলাম জানান, এইটুকু কাজ করে কিছু টাকা বাঁচানো হয়েছে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পত্র প্রাপ্তির পরও নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবলিক কাব ও লাইব্রেরী, বাগভান্ডার উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ সরাসরি নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান করছেন। এসকল প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা নামে মাত্র।
এদিকে হাসপাতাল পারা জামে মসজিদের ওযু খানা ও পানির ট্যাংক নির্মানের জন্য ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর প্রকল্প চেয়ারম্যান আতিকুজ্জামান পাপু চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী। কোনো কাজ না করায় গত বৃহস্পতিবার মুসুল্লিরা মসজিদ পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। আহ্বায়ক হয়েছেন শহিদুল্লাহ বাবু।
এই আতিকুজ্জামান পাপু ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন গ্রামীণ অবকাঠামো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষন কমিটির সদস্য। তিনি কিভাবে ঐ প্রকল্প কমিটির সভাপতিসহ  একাধিক প্রকল্প কমিটির সদস্য হয়েছেন তা রহস্যজনক। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে দুই ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মন্ডল ও ফরিদা পারভিন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কিন্ত প্রস্তাব গৃহিত না হওয়ায় তারা সভায় যোগ দেননি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকারম হোসেন জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ৫০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে আলোচনা হয়েছে এবং এজন্য কিছু সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন করে কমিটির রেজুলেশন আসায় মাষ্টার রোলের সাথে স্বাক্ষর বনছেনা ফলে ঐ গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি  প্রকল্পেল নাম নিয়ে জটিলতা থাকায় ঐগুলোর নামও সংশোধন করা হচ্ছে। যেমন তালিকায় চর ভুরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ মেঃ টন গম বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয়েছে দক্ষিন চর ভুরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর রেজুলেশনের মাধ্যমে চরভুরুঙ্গামারীকে দঃ চর ভুরুঙ্গামারী হিসাবে সংশোধন করা অর্থাৎ পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর এখন কাগজপত্র ঠিক করার কাজ চলছে। আর সমস্ত কাজ করা হচ্ছে রফা করে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তা তিনি এরিয়ে যান।
জানাগেছে, গত অর্থ বছরে তিলাই ইউনিয়নের হামিদা খানম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার ৩৩ ফুট দীর্ঘ একটি ব্রীজ নির্মাণ করে আব্দুল বারী ঠিকাদার। সিডিউল মোতাবেক কাজ করার পরও পিআইওকে ৩ লাখ টাকা উৎকোচ না দেয়ায় ঐ ঠিকাদারের বিল থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা কর্তন করে বিল প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঐ ঠিকাদার নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যকে ঘটনাটি জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদ সদস্য একে এম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকল্প বরাদ্দ আমি দিয়েছি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার জানান, প্রয়োজন বোধে অভিযান চালিয়ে কাজ আদায় করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, শীঘ্রই প্রকল্পগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, কাজ আমি তদারকী করছি।
এদিকে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর ঐ চেয়ারম্যান বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন। যা ইউএনও এবং ওসিকে জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন