শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১১

চলছে হরিলুট কারবার


পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম দঃ পাথরডুবি। প্রায় ৫ হাজার লোকের বাস।  ইউনিয়ন সদরের সাথে তাদের যাতায়তের  দুঃখ হলো ফুলকুমর নদী। শুকনো মৌসুমে হাটু পানি পার হওয়া গেলেও বর্ষাকালে পারাপারে বিপদে পড়তে হয়। তখন তাদের নির্ভর করতে হয় কলা গাছের ভেলার উপর।
গত জুন মাসে এই নদীর উপর সাঁকো দেবার জন্য ননওয়েজ প্রকল্প থেকে ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো।
ননওয়েজ প্রকল্প হলো অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের  কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে অর্থ বাচিয়ে নেয়া প্রকল্প।
এ উপজেলায় মোট ৩১৩৬ জন দৈনিক ১৫০টাকা মজুরিতে ৪০ দিন  কাজ করেছে। এই সকল দিনমজুরের ১০% টাকা কেটে মোট ২০লক্ষ ৯০ হাজার ৫৪৫ টাকা দিয়ে ১০ টি ইউনিয়নে ২৩টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।
দঃ পাথরডুবি গ্রামে দুধকুমর নদীর উপর সাঁকো তৈরীর জন্য ৮১ হাজার টাকার প্রল্পের কথা জানতে পেরে এলাকার মানুষ খুশি হয়েছিলো। কিন্ত সাঁকো যখন তৈরী হলো তখন সকলের কপালে হাত।
মাত্র ৪৮টি বাঁশ ও ৪টি কামলা দিয়ে সর্বমোট ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি করে বাঁশ দিয়ে বিপদজনক এই সাঁকোটি নির্মাণ করে বাকি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
এই সাঁকোর কাজ করেছেন, শামসুল(৬০), হানি (৪০) ও মমতাজ (৫০) তারা জানান, ৮হাজার টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকা আবার স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে দেয়া হয়েছে। তারা জানান, রাস্তায় কিছু গর্ত পুরণ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এই ইউনিয়নে ৩টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিলো ২ লাখ ৭ হাজার। প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন ঐ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও সহকারী মৎস্য অফিসার মাহবুব আলম। তিনি টাকা তুলে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে গেছেন।
অপরদিকে, ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে ৪লাখ ৫ হাজার ১৯০টাকায় ৪ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯নং  ওয়ার্ড নলেয়া গ্রামে আকবরের বাড়ি হতে শুরু করে আব্দুলের বাড়ি পর্যন্ত এবং আকবরের বাড়ি হইতে কিনিক মোড় পর্যন্ত রাস্তায় ২টি বাঁশের সাকো নির্মাণ এবং ২টি ইউ ড্রেন নির্মান। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ১লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কিন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১ মাস  আগে ঐ স্থলে ২টি বাঁশের সাকো তৈরী করা হয়েছিলো। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমি, জোছনা ও মোকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
অর্থাৎ ঐ স্থলে প্রকল্পের কাজ না করেই পুরানো সাঁকো দেখিয়ে সমুদয় অর্থ আত্বসাৎ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও প্রকল্প চেয়ারম্যান হলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহান । তিনি জানান, সদরে আমার জানামতে এখনও কমিটির মিটিং কিংবা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নি। যদি এরকম প্রকল্প দেখানো হয়ে থাকে তা হলে তা বাতিল করা হবে।
ইউনিয়ন সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফাও জানিয়েছেন, এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল হক জানান প্রকল্পের কাজ সঠিক মতো না হলে টাকা কেটে রাখা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন