সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ছিটমহলগুলো

শনিবার ভূরুঙ্গামারীর ছিট কুরসা, ভোটের হাট এবং রোববার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহল গুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছিটমহল গুলোর  বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ছিটবাসী খন্ড খন্ড মিছিল, সমাবেশ করছে। সন্ধ্যার আগে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন মহিলারা। দুইদিন সন্ধ্যাবাতি জ্বালায়নি ছিটবাসীরা।
কালির হাট বাজার মসজিদে বাতি না জ্বালিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন মুসুল্লীরা। বাইরে থেকে একজন একটি টর্স মসজিদের ছাদের দিকে জ্বালিয়ে কিছুটা আলো দিচ্ছিলেন। তাকে টর্স জ্বালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্ধকারে নামাজ পড়া মাকরুহ বলে সামান্য আলো দিয়ে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। তবে আসলে অন্ধকারেই করছি সকল কিছুই।
ছিটবাসী আতাউর, ওবায়দুল, ধীরেন জানান, ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাকি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছিটমহল বিনিময়ের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষনা হয়নি। তবে ছিটমহল বিষয়ে ‘প্রটোকল’ স্বাক্ষর হয়। আমরা প্রোটোকল নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির।তারা আরও জানান, ৭৪-এ করা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির সফল বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভূরুঙ্গামারীর ১২টি ছিটমহলসহ ১৬১টি ছিটমহলের মানুষ অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছে। তা স্বপ্নই থেকে গেছে।                    
তবে এখনও ওই হেড কাউন্টিং বা গণনার ফলাফল পাওয়া যায়নি। ছিটমহলবাসী দীর্ঘদিন ধরে ছিটমহল বিনিময়ে ‘মুজিব-ইন্দিরা’ চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনও করে আসছেন। এবারের ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাকি বৈঠকে ছিটমহল বিষয়ে ‘প্রটোকল’ স্বার হয়। সেই সাথে আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ছিটমহলের সাথে ৩ বিঘা করিডোর ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার চুক্তি হয়। কিন্তু বাকি ১৬১ টি ছিটমহলের মানুষের স্বপ্ন-স্বাদ অধরাই থেকে যায়।
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মোঃ মঈনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা দুই দিন অন্ধকারে থেকে পৃথিবীর সকল মানবতাবাদীদের জানিয়ে দিলাম মানুষ কেন অন্ধকারে ফিরে যায়। আমরা চাই ভারত ও বাংলাদেশের সরকার দ্রুত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বাস্তবায়ন করবেন। আর বাস্তবায়ন না হলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন