৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ১২ দিন পরেও মাতবরদের হস্তক্ষেপে
মামলা করতে পারেনি ধর্ষিতার পরিবার। একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা
দিতে ধর্ষিতার পরিবারকে ৫ শতক জমির লোভ দেখিয়ে মামলা করা থেকে বিরত রেখেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে।
ধর্ষিতার পারিবারিক সুত্র জানায়, শিলখুড়ি
ইউনিয়নের আবুবকর সিদ্দিকের ৬ বছরের শিশু কন্যাকে প্রতিবেশী সাইকেল মেকার
আলমগীর হোসেন (১৮) গত ২৭ জুন দুপুরে চকলেটের লোভ দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁশ
ঝাড়ের ভিতর নিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায়
শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা করলে প্রভাবশালী কতিপয়
মাতব্ব্র ঘটনাটি মীমাংসার জন্য পরিবারটির উপর চাপ সৃষ্টি করে। কিন্ত
শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরের দিন তাকে ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। ঐদিনই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ধর্ষিতা শিশুটিকে কুড়িগ্রাম
হাসপাতালে প্রেরণ করে।
এদিকে, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি
চান মিস্ত্রি, সহসভাপতি মজিবর রহমান, বিএনপির হযরত আলী, জামায়াতের আবুল
হোসেন, ওমেদ আলী ও আব্দুর রাজ্জাক মিলে হযরত আলীর বাড়ির বৈঠকে ১৬ শতক জমির
বিনিময়ে ঘটনাটি আপোষ করার সিদ্ধান্ত হয়। এভাবে কালৎক্ষেপন করে পরবর্তীতে
আরেক দফা বৈঠকে জমির পরিমান কমিয়ে ৫ শতক করা হয় এবং আপোষ নামায় তাৎক্ষনিক
স্বাক্ষর গ্রহন করে। এরপর মাতব্বররা তাদের ভূমিকা পরিবর্তন করায় ঘটনার ১২
দিন পরেও ধর্ষিতাকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়নি। ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ
গোপন সুত্রে খবর পেয়ে, গতকাল বৃহস্পতিবার ধর্ষক আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার
করে থানায় নিয়ে আসে। ধর্ষিতা শিশুটি বর্তমানে ভয়ে মামার বাড়িতে অবস্থান
করছে।
ভুরুঙ্গামারী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল
অফিসার ডাঃ আবু সায়েম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, শিশুটি আসার পর আমরা
এন্ট্রি করে রির্পোটের জন্য কুড়িগ্রাম হাসপাতালে পাঠিয়েছি। ওসি হাসান
ইনাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ধর্ষককে গ্রেফতার করেছি কিন্তু
মাতব্বরদের ভয়ে ধর্ষিতার পরিবার এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের করেনি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন