সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ছিটমহলগুলো

শনিবার ভূরুঙ্গামারীর ছিট কুরসা, ভোটের হাট এবং রোববার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহল গুলো সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছিটমহল গুলোর  বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে ছিটবাসী খন্ড খন্ড মিছিল, সমাবেশ করছে। সন্ধ্যার আগে রান্নার কাজ সেরে নিচ্ছেন মহিলারা। দুইদিন সন্ধ্যাবাতি জ্বালায়নি ছিটবাসীরা।
কালির হাট বাজার মসজিদে বাতি না জ্বালিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়ছিলেন মুসুল্লীরা। বাইরে থেকে একজন একটি টর্স মসজিদের ছাদের দিকে জ্বালিয়ে কিছুটা আলো দিচ্ছিলেন। তাকে টর্স জ্বালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্ধকারে নামাজ পড়া মাকরুহ বলে সামান্য আলো দিয়ে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। তবে আসলে অন্ধকারেই করছি সকল কিছুই।
ছিটবাসী আতাউর, ওবায়দুল, ধীরেন জানান, ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাকি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছিটমহল বিনিময়ের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষনা হয়নি। তবে ছিটমহল বিষয়ে ‘প্রটোকল’ স্বাক্ষর হয়। আমরা প্রোটোকল নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন চাই ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির।তারা আরও জানান, ৭৪-এ করা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির সফল বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভূরুঙ্গামারীর ১২টি ছিটমহলসহ ১৬১টি ছিটমহলের মানুষ অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখছে। তা স্বপ্নই থেকে গেছে।                    
তবে এখনও ওই হেড কাউন্টিং বা গণনার ফলাফল পাওয়া যায়নি। ছিটমহলবাসী দীর্ঘদিন ধরে ছিটমহল বিনিময়ে ‘মুজিব-ইন্দিরা’ চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনও করে আসছেন। এবারের ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাকি বৈঠকে ছিটমহল বিষয়ে ‘প্রটোকল’ স্বার হয়। সেই সাথে আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ছিটমহলের সাথে ৩ বিঘা করিডোর ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার চুক্তি হয়। কিন্তু বাকি ১৬১ টি ছিটমহলের মানুষের স্বপ্ন-স্বাদ অধরাই থেকে যায়।
ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, মোঃ মঈনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা দুই দিন অন্ধকারে থেকে পৃথিবীর সকল মানবতাবাদীদের জানিয়ে দিলাম মানুষ কেন অন্ধকারে ফিরে যায়। আমরা চাই ভারত ও বাংলাদেশের সরকার দ্রুত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বাস্তবায়ন করবেন। আর বাস্তবায়ন না হলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০১১

দুধকুমর নদীর ভাঙন ঠেকাতে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী

দুধকুমর নদীর ভাঙন ঠেকাতে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী thumbnailদুধকুমর নদীর ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৮লাখ টাকা ব্যয়ে বালুর বস্তা ফেলা প্রকল্পে অনিয়ম করার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাটেশ্বরী সোনাহাট ব্রীজের সংযোগ সড়ক ভাঙনের মুখে রয়েছে। সড়ক ও ব্রীজ রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনির হাট থেকে ১৬০ মিটার বালু ভর্তি বস্তা (২৫ হাজার) ফেলার উদ্যোগ নেয়। নতুন সেনথেটিক বস্তায় ১৫০ কেজি বালু ভর্তি করার নিয়ম থাকলেও পুরাতন সিমেন্ট ও সারের বস্তায় ৫০ কেজি বালু ভর্তি করে ফেলানো হচ্ছে যা ফেলার সাথে সাথে ফেটে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মন্ডল ও আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি শাহজাহান সিরাজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনৈক আব্দুস সাত্তারের নির্দেশে বস্তা ফেলানো হচ্ছে বলে জানানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিদর্শন শেষে নি¤œমানের বস্তা না ফেলার নির্দেশ দেন।
মোবাইলে এসও মহিবুল আলম জানান, কাজ নি¤œ মানের হওয়ায় আমি বস্তা ফেলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি কিন্ত জোর করে বস্তা ফেলানো হচ্ছে। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামও বলতে পারেননি। তবে রংপুরের মনজু ঠিকাদার এ কাজ করছে বলে জানান।
এ দিকে ২৫ হাজার  বালু ভর্তি বস্তা ফেলার কথা থাকলেও মাত্র ৫ হাজার বস্তা  ফেলা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
ভাঙন রায় দ্রুত কাজ শেষ করা না গেলে ৭টি ইউনিয়ন এবং প্রস্তাবিত বঙ্গ সোনাহাট স্থলবন্দরের যোগাযোগের এক মাত্র রাস্তাটি যে কোন মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে।

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নপরিষদের কয়েক লাখ টাকার সরকারী গাছ অবৈধ ভাবে কেটে নিয়েছে কতিপয় দূর্বৃত্ত

চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় কয়েক লাখ টাকার সরকারী  গাছ অবৈধ ভাবে কেটে নিয়েছে কতিপয় দূর্বৃত্ত। তাদের বেআইনী কাজের লিখিত অভিযোগ দায়ের  করতে গিয়ে  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন এলাকার জনগন।
এ ঘটনায় চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নে চরম উত্তেজনা  সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগন অবৈধ ভাবে সরকারী গাছ কেটে নেয়ার মদতদাতা হিসেবে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ এর সাথে জড়িত দের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ডাক্তার নিয়ামত আলী আকন্দ গত ২০Ñ২৫ বছর আগে চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে  অনেকগুলো কড়াই গাছ রোপন করেন। গাছগুলো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাসহ রাস্তার শোভা বৃদ্ধি করে আসছিল। আর্থিকভাবে  লাভবান হওয়ার আশায়  চর ভুরুঙ্গামারী উচ্চ বিদ্যালযের প্রধান  শিক্ষক সদরুল আলম বাবুর নেতৃত্বে কিছু লোক  গত মঙ্গলবার গাছগুলো অবৈধ ভাবে কাটা শুরু করে।  এ সময়  স্থানীয় জনগন তাতে বাধাঁ দেয়।  তিনি জনগণকে বোঝাবার চেষ্টা করেন,   গাছগুলোর মালিক স্কুল কতৃপক্ষ। তার কাছে গাছ কাটার বৈধ কাগজ পত্র আছে।  
এ সময় জনগন তা দেখতে চাইলে তিনি  কাগজ  পত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। জনগন  বিক্ষুব্ধ হয়ে  বিষয় টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে অবহিত করলে নির্বাহী কর্মকর্তা  ঘটনার সত্যতা খুজে পায় এবং গাছগুলো জব্দ করে উপজেলা চত্বরে নিয়ে আসেন।
পরে  স্থানীয় জনগন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উক্ত ঘটনার  লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে নির্বাহী কর্মকর্তা  তাদের উপর বিনা কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তাদের নানাভাবে লাঞ্চিত করেন । এমন কি গাছ কাটা মামলায় তাদের জড়ানোর হুমকী ধমকী দেন।
এ বিষয়ে চরভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের বাসিন্দা নেয়ামত আলীর পুত্র রোকনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,  আমরা স্থানীয় জনগনের পক্ষে গাছ কাটার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার ইউএনও সাহেবের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তিনি আমাদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান এবং আমাদের অপমান ও  ভৎসনা করে তার রুম থেকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা  নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলামের সাথে এই প্রতিবেদকের  কথা হলে তিনি জানান,  গাছ কাটার খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। গাছ গুলো জব্দ করে উপজেলা চত্বরে আনা  হয়েছে। তবে সদরুল আলম একজন  শিক্ষক সেই বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে মামলা  দায়ের করিনি।
স্থনীয় জনগনের অভিযোগের বিষয়টিকে  তিনি বলেন, ভিলেজ পলেটিক্স ।

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১১

অদম্য মেধাবী শফিউল

আর্থিক চরম দূরাবস্থা আর আধুনিক সুযোগ সুবিধা না থাকলেও মেধাকে দমিয়ে রাখান যায় না।চেষ্টা ও অধ্যাবসায় থাকলে কোন বাঁধা যে বাধাঁই নয় তার প্রমান করেছেন শাফিউল। দারিদ্রতার কাছে মাথানত করেনি শাফিউল।দরিদ্র দিন মজুরের সনত্মান শাফিউল। ভুরম্নঙ্গামারী ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ এসসি পরীড়্গায় বিজ্ঞান বিভাগে জি,পি,এ -৫ পেয়েছে সে। সাফিউলের পিতা মোবারক হোসেন একজন হত দরিদ্র দিন মজুর। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।মা সাজেদা অন্যের বাড়িতে গৃহস্থালী কাজে সহযোগিতা করতো।শাফিউল গত এস এস সি পরীড়্গায় ভুরম্নঙ্গামারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জি,পি,এ-৫ পেয়েছিলো।বাবা মোবারক জানান, তার বই কিনে দিতে পারিনি। প্রতিবেশীর এক ছেলের পুরানো বই দিয়ে লেখাপড়া করেছ্‌ে।কিছুদিন এখানে কোচিং করেছিলো ওর মায়ের কাজের টাকা , হাসমুরগী ও ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে ফি দেয়া হতো। কলেজে বেতন দেয়া লাগতো না। কিনত্ম খাতা কলম কিনতে মানুষের কাছে হাত পাততে হতো।ঠিক মতো খাবার দিতে পারেনি।কখনও কখনও তরকারী না থাকলে না খেয়েই কলেজে যেত।মা সাজেদা বেগম জানায় , কোন দিন তার মনের মতো পোশাক ,জুতা ,সেন্ডেল কিনে দিতে পারিনি। অন্যের দেয়া পোশাক পরেই সে চলাফেরা করতো।শাফিউলরা ৪ ভাই। সে সবার বড়।ছোট ভাই এনামুল ৭ম শ্রেণীতে এবং নাবিদুল ব্র্যাক পরিচালিত প্রি- স্কুল পড়ে। শাফিউল জানায়, ছোট বেলা থেকে বাবার সাথে ড়্গেতে কাজ করেছি। যে বাড়িতে বাবা কাজ করতো সেই বাড়ীর ছেলে মেয়েদের দেখে আমারও ইচ্ছা জন্মেছে আমিও ডাক্তার হবো। সেই থেকে লেখাপড়ায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন কোচিং করার জন্য অনেক টাকার দরকার । এ টাকা পাব কোথায় সে চিনত্মায় রয়েছি। তারপরও শফিউল আশাবাদি সে একজন চিকিৎসক হবে এবং মানুষের সেবা করবে। এজন্য সে সকলের দোয়াও সহযোগিতা কামনা করেছেন। সে শিড়্গক ,বন্ধুবান্ধব এবং যারা সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রতি সে কৃতজ্ঞ।

মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১১

এইচএসসি পরীক্ষার উত্তর পত্র জালিয়াতির অভিযোগে ২ শিক্ষকের এমপিও স্থগিত

২০১১ সালের এইচএসসি ইংরেজি ২য় পত্রের  উত্তর পত্র জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ভুরুঙ্গামাররী সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের  ২ শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।
জানাগেছে, , সোনাহাট ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক সুবল চন্দ্র রায় (পরীক্ষক কোড নং ৪০২৩) ২০১১ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজি ২য় পত্রের ৪৫১ টি উত্তর পত্র মুল্যায়নের জন্য গ্রহন করে। তাঁর গৃহিত উত্তর পত্রের ৮৮টি উত্তর পত্র তাঁর সহকর্মী সানাহাট ডিগ্রী কলেজ সাচিবিক বিদ্যার প্রভাষক আশরাফুল আলম এর কাছ থেকে রংপুর গঙ্গাচড়া থানাধীন গজ্ঞিপুর ভিন্ন জগত বিনোদন পার্কের সামনের রাস্তার রিপা হোটেলের বারান্দা থেকে রংপুর জেলার গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করে।
মুল পরীক্ষক সুবল চন্দ্র রায় পলাতক থাকায় জেলা, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় ভুরুঙ্গামারীর ভাড়াবাসা থেকে ২৬১ খানা খাতা উদ্ধার করে বোর্ড হেফাজতে নেয়।
এরপরে পুলিশ আশরাফুলের শ্বশুড় বাড়ি থেকে আরো ২টি খাতা উদ্ধার করে।
সুবল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া থানায় ২৬/৫/২০১১ তারিখে মামলা নং ২৪ দায়ের করেন।
এছাড়া বোর্ড কর্তৃপক্ষ ৩০/৫/২০১১ তারিখে সুবল ও আশরাফুল আলমসহ পুলিশের হাতে ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
গত ২৭/৬/২০১১ তারিখে বোর্ডের সাধারণ সভার সিন্ধাতের আলোকে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর উভয় শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ ও গর্ভর্ণিং বডির সভাপতিকে পত্র প্রেরণ করলে কলেজের পক্ষ থেকে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করে কারন দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। অধ্যক্ষ বাবুল আখতার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১১

চলছে হরিলুট কারবার


পাথরডুবি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম দঃ পাথরডুবি। প্রায় ৫ হাজার লোকের বাস।  ইউনিয়ন সদরের সাথে তাদের যাতায়তের  দুঃখ হলো ফুলকুমর নদী। শুকনো মৌসুমে হাটু পানি পার হওয়া গেলেও বর্ষাকালে পারাপারে বিপদে পড়তে হয়। তখন তাদের নির্ভর করতে হয় কলা গাছের ভেলার উপর।
গত জুন মাসে এই নদীর উপর সাঁকো দেবার জন্য ননওয়েজ প্রকল্প থেকে ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো।
ননওয়েজ প্রকল্প হলো অতি দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের  কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে অর্থ বাচিয়ে নেয়া প্রকল্প।
এ উপজেলায় মোট ৩১৩৬ জন দৈনিক ১৫০টাকা মজুরিতে ৪০ দিন  কাজ করেছে। এই সকল দিনমজুরের ১০% টাকা কেটে মোট ২০লক্ষ ৯০ হাজার ৫৪৫ টাকা দিয়ে ১০ টি ইউনিয়নে ২৩টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে।
দঃ পাথরডুবি গ্রামে দুধকুমর নদীর উপর সাঁকো তৈরীর জন্য ৮১ হাজার টাকার প্রল্পের কথা জানতে পেরে এলাকার মানুষ খুশি হয়েছিলো। কিন্ত সাঁকো যখন তৈরী হলো তখন সকলের কপালে হাত।
মাত্র ৪৮টি বাঁশ ও ৪টি কামলা দিয়ে সর্বমোট ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি করে বাঁশ দিয়ে বিপদজনক এই সাঁকোটি নির্মাণ করে বাকি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
এই সাঁকোর কাজ করেছেন, শামসুল(৬০), হানি (৪০) ও মমতাজ (৫০) তারা জানান, ৮হাজার টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকা আবার স্থানীয়ভাবে চাঁদা তুলে দেয়া হয়েছে। তারা জানান, রাস্তায় কিছু গর্ত পুরণ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এই ইউনিয়নে ৩টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিলো ২ লাখ ৭ হাজার। প্রকল্প চেয়ারম্যান ছিলেন ঐ ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও সহকারী মৎস্য অফিসার মাহবুব আলম। তিনি টাকা তুলে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে গেছেন।
অপরদিকে, ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে ৪লাখ ৫ হাজার ১৯০টাকায় ৪ টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯নং  ওয়ার্ড নলেয়া গ্রামে আকবরের বাড়ি হতে শুরু করে আব্দুলের বাড়ি পর্যন্ত এবং আকবরের বাড়ি হইতে কিনিক মোড় পর্যন্ত রাস্তায় ২টি বাঁশের সাকো নির্মাণ এবং ২টি ইউ ড্রেন নির্মান। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ১লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কিন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১ মাস  আগে ঐ স্থলে ২টি বাঁশের সাকো তৈরী করা হয়েছিলো। ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী সুমি, জোছনা ও মোকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
অর্থাৎ ঐ স্থলে প্রকল্পের কাজ না করেই পুরানো সাঁকো দেখিয়ে সমুদয় অর্থ আত্বসাৎ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
সদর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও প্রকল্প চেয়ারম্যান হলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তারাপদ চৌহান । তিনি জানান, সদরে আমার জানামতে এখনও কমিটির মিটিং কিংবা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নি। যদি এরকম প্রকল্প দেখানো হয়ে থাকে তা হলে তা বাতিল করা হবে।
ইউনিয়ন সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফাও জানিয়েছেন, এখনও প্রকল্পের কাজ শুরু হয় নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুল হক জানান প্রকল্পের কাজ সঠিক মতো না হলে টাকা কেটে রাখা হবে।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

টিআর প্রকল্পঃ ইউএনও’র নির্দেশ মানছেনা চেয়ারম্যানঃ এখন অফিসে চলছে জাল স্বাক্ষর ও প্রকল্প পরিবর্তনের কাজ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিন দিনের মধ্যে গ্রমীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষনের কাজ সমাপ্ত করে তাঁর দপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দিলেও অদ্যাবধি অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের সিকি ভাগও হয়নি। কিন্ত প্রকল্প কমিটি রেজুলেশন করে জানিয়ে দিয়েছে প্রকল্পের কাজ শতভাগ সমাপ্ত হয়েছে। আর ৩০ জুন টাকা উত্তোলনের আগেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসাররা সন্তোষজনক কাজ হয়েছে মর্মে মাষ্টার রোলে স্বাক্ষর করার পরই পিআইও  অফিস থেকে খাদ্য-শস্য ও অর্থের চেক প্রদান করা হয় প্রকল্প চেয়ারম্যানদের নামে। ডি ও এবং চেকে স্বাক্ষর নিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের পরে টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য তিনি খাদ্য-শস্যের ডিও ক্রয় করেন। সরল বিশ্বাসে তারা চলে গেলেও দীর্ঘ দিনেও কাজ  না করায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ সংক্রান্ত  খবর প্রকাশ হওয়ায় টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি করে গত ১০/৭/২০১১তারিখে ৩৯৯নং স্মারকে প্রকল্প চেয়ারম্যানদেরকে ৩ দিনের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করে প্রকল্প কমিটির রেজুলেশন সহ তাঁর দপ্তরে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানানো হয়।
সরেজমিন সোমবার শিলখুড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় এ বিদ্যালয়ে ঘর মেরামত বাবদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও কোন কাজ করা হয়নি। মাঠের মাঝখানে শ’পাঁচেক ইট দেখা গেছে। একই ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের গৃহ মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৫০ হাজার টাকা। এখানে ১১টি দরজার শুধু বাতা বদলিয়ে রং করা হয়েছে। আর কোনো কাজ করা হয়নি।
প্রধান শিক্ষক রিয়াজুল ইলাম জানান, এইটুকু কাজ করে কিছু টাকা বাঁচানো হয়েছে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পত্র প্রাপ্তির পরও নেহাল উদ্দিন বালিকা বিদ্যালয়, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবলিক কাব ও লাইব্রেরী, বাগভান্ডার উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাজ সরাসরি নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান করছেন। এসকল প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা নামে মাত্র।
এদিকে হাসপাতাল পারা জামে মসজিদের ওযু খানা ও পানির ট্যাংক নির্মানের জন্য ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর প্রকল্প চেয়ারম্যান আতিকুজ্জামান পাপু চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী। কোনো কাজ না করায় গত বৃহস্পতিবার মুসুল্লিরা মসজিদ পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। আহ্বায়ক হয়েছেন শহিদুল্লাহ বাবু।
এই আতিকুজ্জামান পাপু ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন গ্রামীণ অবকাঠামো সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষন কমিটির সদস্য। তিনি কিভাবে ঐ প্রকল্প কমিটির সভাপতিসহ  একাধিক প্রকল্প কমিটির সদস্য হয়েছেন তা রহস্যজনক। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় প্রকল্পের অনিয়ম তদন্তে দুই ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন মন্ডল ও ফরিদা পারভিন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কিন্ত প্রস্তাব গৃহিত না হওয়ায় তারা সভায় যোগ দেননি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকারম হোসেন জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ৫০ ভাগ কাজ হয়েছে বলে আলোচনা হয়েছে এবং এজন্য কিছু সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন করে কমিটির রেজুলেশন আসায় মাষ্টার রোলের সাথে স্বাক্ষর বনছেনা ফলে ঐ গুলো ঠিক করা হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি  প্রকল্পেল নাম নিয়ে জটিলতা থাকায় ঐগুলোর নামও সংশোধন করা হচ্ছে। যেমন তালিকায় চর ভুরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ মেঃ টন গম বরাদ্দ থাকলেও দেয়া হয়েছে দক্ষিন চর ভুরুঙ্গামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশের পর রেজুলেশনের মাধ্যমে চরভুরুঙ্গামারীকে দঃ চর ভুরুঙ্গামারী হিসাবে সংশোধন করা অর্থাৎ পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর এখন কাগজপত্র ঠিক করার কাজ চলছে। আর সমস্ত কাজ করা হচ্ছে রফা করে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তা তিনি এরিয়ে যান।
জানাগেছে, গত অর্থ বছরে তিলাই ইউনিয়নের হামিদা খানম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখার ৩৩ ফুট দীর্ঘ একটি ব্রীজ নির্মাণ করে আব্দুল বারী ঠিকাদার। সিডিউল মোতাবেক কাজ করার পরও পিআইওকে ৩ লাখ টাকা উৎকোচ না দেয়ায় ঐ ঠিকাদারের বিল থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা কর্তন করে বিল প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঐ ঠিকাদার নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যকে ঘটনাটি জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদ সদস্য একে এম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রকল্প বরাদ্দ আমি দিয়েছি বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব প্রশাসনের।
উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার জানান, প্রয়োজন বোধে অভিযান চালিয়ে কাজ আদায় করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, শীঘ্রই প্রকল্পগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, কাজ আমি তদারকী করছি।
এদিকে বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর ঐ চেয়ারম্যান বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় সাংবাদিকদের হুমকি প্রদর্শন করে আসছেন। যা ইউএনও এবং ওসিকে জানানো হয়েছে।